তারবিয়াহ ও আখলাক

১. আক্বীদাহ ও ঈমান দৃঢ়করণ: তাওহীদ শিক্ষা (উলূহিয়্যাহ, রুবুবিয়্যাহ, আসমা-ও -সিফাত)। শিরক ও বিদআতের ক্ষতি সম্পর্কে জানা। সালাফে সালেহীনের মানহাজে আক্বীদাহ দৃঢ়করণ এবং আল্লাহভীতি ও তাকওয়া চর্চা করা।

 

২. ইবাদত ও আমল: সালাত, সিয়াম, যাকাত ও অন্যান্য ইবাদতের নিয়মিত চর্চা রাখা। কুরআন তিলাওয়াত, হিফয ও তাদাব্বুরের অভ্যাস তৈরি করা। সহীহ দু‘আ ও আযকার মুখস্থ করা এবং কিয়ামুল লাইল ও নফল ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ।

 

৩. আখলাক ও ব্যক্তিত্ব গঠন: সততা, আমানতদারিতা ও ইখলাস ঠিক রাখা। ধৈর্য (সবর), শোকর ও রিযা বিল-ক্বদর জারি রাখা। নম্রতা, বিনয়ী হওয়া ও অহংকার বর্জন করা। কথা বলার শিষ্টাচার, মিথ্যা ও গীবত থেকে বিরত থাকা। সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

 

৪. সামাজিক সম্পর্ক ও আচরণ: পিতা-মাতার সাথে আদব ঠিক রাখা ও সেবা করা। উস্তায ও আলেমদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা। সহপাঠীদের সাথে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা রাখা। প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতি মমতা, দু‘আ ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা।

 

৫. নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধ: নিজেকে উম্মাহর সেবায় প্রস্তুত করা। সমাজ সংস্কার ও দাওয়াহতে অংশগ্রহণ করা। আলেমদের মতো জ্ঞান ও আখলাকে নেতৃত্ব প্রদর্শন করা। সমস্যা সমাধান ও ইতিবাচক উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন।

 

৬. দাওয়াহ ও আমর বিল মা‘রূফ: দাওয়াহর আদব ও হিকমাহ শেখা। ইসলামের মৌলিক দাওয়াহ বিষয়াবলী মুখস্থ করা। বাস্তব জীবনে দাওয়াহর অনুশীলন (বন্ধু, পরিবার, সমাজের মধ্যে) বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও সত্যের দিকে আহ্বান জারি রাখা।

 

৭. আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়া) ও মুজাহাদা: নফসের খারাপ গুণাবলী দূরীকরণ (হিংসা, অহংকার, রিয়া ইত্যাদি)। ভালো গুণাবলী অর্জন (তাওয়াক্কুল, খুশু, রহমত) করা। নিয়মিত আত্মমূল্যায়ন (মুহাসাবাহ)

ইলম ও আখলাকের সমন্বয়ে নিজেকে উন্নত করা।

 

পরিকল্পিত কার্যক্রম: সাপ্তাহিক তারবিয়াহ লেকচার। ইলমী হালাকাহ। আখলাক প্রতিযোগিতা (সততা, সময়ানুবর্তিতা, সেবামূলক কাজ)। শিক্ষার্থীদের আত্মমূল্যায়ন রিপোর্ট। উস্তাযের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নসীহাহ।